
ব্রিটেন ও ন্যাটোর কোনো সামরিক পদক্ষেপ রাশিয়ার ভূখণ্ডে হলে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিয়েছে লন্ডনে রুশ দূতাবাস। বাল্টিক সাগরে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন কালিনিনগ্রাদ নিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং স্কাই নিউজের একটি সাম্প্রতিক টিভি সিরিজের প্রসঙ্গ তুলে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
রুশ দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যারা কালিনিনগ্রাদ অবরোধ বা সেখানে হামলার পরিকল্পনার কথা বলছেন, তাদের এর পরিণতি সম্পর্কে কোনো ভুল ধারণা থাকা উচিত নয়। ব্রিটেন বা ন্যাটো রাশিয়ার ভূখণ্ডে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে মস্কো তার হাতে থাকা সব ধরনের উপায় ব্যবহার করে জবাব দেবে, যার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্রও রয়েছে।
রুশ দূতাবাসের বিবৃতিতে স্কাই নিউজের সাম্প্রতিক মিনি সিরিজ ‘দ্য ওয়ারগেম’-এর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সিরিজটিতে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ব্রিটেনে হামলার একটি কাল্পনিক পরিস্থিতি তৈরি করে রাজনৈতিক নেতাদের সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। রাশিয়ার দূতাবাস এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রকাশিত সংবাদ এবং কালিনিনগ্রাদ নিয়ে আলোচনার প্রতিক্রিয়ায় তাদের বক্তব্য দেয়।
বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত কালিনিনগ্রাদ রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি অঞ্চল। এর চারপাশে ন্যাটোর সদস্য পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়া রয়েছে। অঞ্চলটি রাশিয়ার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং সেখানে রাশিয়ার বাল্টিক ফ্লিটের ঘাঁটি রয়েছে।
কালিনিনগ্রাদ নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি কারণ হলো পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যবর্তী প্রায় ৬০ মাইল দীর্ঘ সুয়ালকি গ্যাপ। এই করিডোরটি কালিনিনগ্রাদ ও রাশিয়ার মিত্র বেলারুশের মধ্যে স্থল যোগাযোগের সম্ভাব্য পথ হিসেবে বিবেচিত হয়। একই সঙ্গে এটি বাল্টিক দেশগুলোকে ইউরোপের অন্য অংশের সঙ্গে স্থলপথে যুক্ত রাখে।
রাশিয়ার এই নতুন সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকারও সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার সম্ভাব্য নাশকতা ও সাইবার হামলার ঝুঁকি নিয়ে প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছে।
এদিকে কালিনিনগ্রাদ নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন বিশ্লেষণে অঞ্চলটির কৌশলগত গুরুত্ব এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তবে বর্তমানে কালিনিনগ্রাদকে ঘিরে ব্রিটেন বা ন্যাটোর কোনো সামরিক অভিযান চলছে না। রুশ দূতাবাসের বক্তব্যটি একটি সতর্কবার্তা হিসেবেই দেওয়া হয়েছে।