
ওয়েলসে আজ থেকে ড্রাইভারদের জন্য স্থির অবস্থায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে ইঞ্জিন চালু রাখার জরিমানা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। এতদিন এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ £২০ জরিমানা করা হলেও এখন তা বেড়ে সর্বোচ্চ £১৫০ করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পরিস্থিতি অনুযায়ী ড্রাইভারকে £৭৫ থেকে £১৫০ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে ইঞ্জিন চালু রাখাকে ‘ইঞ্জিন আইডলিং’ বলা হয়। ওয়েলশ সরকার বলছে, বায়ুদূষণ, ক্ষতিকর নিঃসরণ এবং শব্দদূষণ কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে স্কুল, হাসপাতাল, কেয়ার হোম এবং যেখানে শিশু, বয়স্ক বা অসুস্থ মানুষের উপস্থিতি বেশি, সেসব এলাকায় অপ্রয়োজনীয় ইঞ্জিন চালু রাখা বন্ধ করাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে অনেক ড্রাইভারই যে নিয়মটি জানেন না, তা উঠে এসেছে সরকারি এক জরিপে। জরিপ অনুযায়ী, মাত্র তিনজনের মধ্যে একজন জানেন যে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গাড়ি দাঁড় করিয়ে ইঞ্জিন চালু রাখাও একটি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
হাইওয়ে কোডের ১২৩ নম্বর নিয়মে বলা হয়েছে, কোনো গাড়ি পাবলিক রোডে কয়েক মিনিটের বেশি সময় স্থির থাকবে বলে মনে হলে ড্রাইভারদের পার্কিং ব্রেক ব্যবহার করে ইঞ্জিন বন্ধ করে দেওয়া উচিত। রোড ট্রাফিক অ্যাক্ট ১৯৮৮-এর ৪২ ধারার আওতায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ইঞ্জিন চালু রেখে দাঁড়িয়ে থাকা ড্রাইভারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
তবে ড্রাইভারকে সরাসরি জরিমানা করা হবে না। কোনো এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তা যদি মনে করেন যে ড্রাইভার অপ্রয়োজনীয়ভাবে ইঞ্জিন চালু রেখে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রেখেছেন, তাহলে প্রথমে তাকে ইঞ্জিন বন্ধ করতে বলা হবে। ড্রাইভার নির্দেশ মেনে ইঞ্জিন বন্ধ করে দিলে অথবা গাড়ি নিয়ে চলে গেলে জরিমানা করা যাবে না। কিন্তু ড্রাইভার ইঞ্জিন বন্ধ করতে অস্বীকৃতি জানালে তখন জরিমানা আরোপ করা হতে পারে।
কতক্ষণ ইঞ্জিন চালু রেখে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখলে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে, তার নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। তবে হাইওয়ে কোডে বলা হয়েছে, গাড়ি কয়েক মিনিটের বেশি সময় স্থির থাকার সম্ভাবনা থাকলে ইঞ্জিন বন্ধ করা উচিত।
নতুন নিয়মটি পেট্রোল, ডিজেল ও হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কারণ এসব গাড়ির ইঞ্জিন স্থির অবস্থায়ও নিষ্কাশন গ্যাস তৈরি করে। বৈদ্যুতিক গাড়িতে অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন না থাকায় স্থির অবস্থায় নিষ্কাশন গ্যাস নির্গত হয় না।
তবে সব পরিস্থিতিতে ইঞ্জিন চালু রাখলে জরিমানা হবে না। ট্রাফিক পরিস্থিতির কারণে গাড়ি থেমে থাকলে, যেমন ট্রাফিক লাইট, যানজট বা রেলক্রসিংয়ে অপেক্ষা করার সময়, তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না। জরুরি যানবাহনের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম চালু রাখা, লরি বা ভ্যানের রেফ্রিজারেশন ইউনিট চালানো কিংবা গাড়ির ত্রুটি পরীক্ষা বা মেরামতের প্রয়োজন হলেও ইঞ্জিন চালু রাখা যেতে পারে।
এছাড়া ব্যক্তিগত জমিতে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ সুপারমার্কেট, হাসপাতাল বা ফাস্টফুড রেস্তোরাঁর মতো ব্যক্তিমালিকানাধীন পার্কিং এলাকায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে ইঞ্জিন চালু রাখার জন্য এই আইনের আওতায় জরিমানা করা যাবে না।
ওয়েলশ সরকার বলছে, বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তাদের দাবি, অপ্রয়োজনীয়ভাবে গাড়ির ইঞ্জিন চালু রাখলে ক্ষতিকর দূষণ ছড়ায় এবং শিশু, বয়স্ক ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা মানুষের ওপর এর প্রভাব বেশি পড়তে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৮০ শতাংশ মানুষ স্থির অবস্থায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে ইঞ্জিন চালু রাখাকে গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন।
নতুন জরিমানা কার্যকর হওয়ায় ওয়েলসে ড্রাইভারদের বিশেষ করে স্কুল, হাসপাতাল ও অন্যান্য সংবেদনশীল এলাকার আশপাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার সময় ইঞ্জিন বন্ধ রাখার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।