রাজনীতি

বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক জোরদারে ব্রিটিশ এমপিদের সহযোগিতার আহবান রাষ্ট্রপতির

17207_president-1 Large.jpeg

বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সংসদীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ বাড়াতে যুক্তরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার বঙ্গভবনে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশবিষয়ক সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপের (এপিপিজি) একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এপিপিজির চেয়ার ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি আপসানা বেগম। এ সময় ব্রিটিশ এমপি শওকত আদম এবং হাউস অব লর্ডসের সদস্য লর্ড কুরবান হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গভবনে প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বাংলাদেশবিষয়ক সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপের সদস্যদের অবদান দেশের মানুষ স্মরণ করবে। তিনি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি বাজার। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও সুশাসনের প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ ক্ষেত্রে দুই দেশের আইনপ্রণেতাদের পারস্পরিক সফর, সংসদীয় কমিটিগুলোর মধ্যে মতবিনিময় এবং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদে একটি বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনেরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাতের শুরুতে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান আপসানা বেগম। দীর্ঘ আন্দোলনের পথে নানা ধরনের নিপীড়ন ও নির্যাতনের মধ্যেও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তার ভূমিকা ও সাফল্যের প্রশংসা করেন তিনি।

প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানান এবং এ জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। এ সময় তারা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশে ও বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানগুলোর আদলে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবসহ বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও