
২০২৬ সালের আটলান্টিক ঘূর্ণিঝড় মৌসুমের প্রথম হারিকেনে পরিণত হয়েছে ইসাইয়াস। ঘণ্টায় ১৬৫ কিমি বেগের বাতাস ও ৯৭৫ মিলিবার সর্বনিম্ন বায়ুচাপ নিয়ে ঝড়টি শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর উপসাগরীয় উপকূলের দিকে এগোচ্ছে।
দেশটির ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) জানিয়েছে, উপকূলের কাছে পৌঁছানোর সময় এটি ক্যাটাগরি ২ হারিকেনে রূপ নিতে পারে।
প্রবল এল নিনোর প্রভাবে এবার আটলান্টিক অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম বেশ শান্ত ছিল। ১৯০৫ সালের ৮ অক্টোবরের পর এবারই এত দেরিতে মৌসুমের প্রথম হারিকেন তৈরি হলো। তবে ১৯৬০-এর দশকে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড় পর্যবেক্ষণ শুরুর আগের সময়ের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করা কঠিন। স্যাটেলাইট প্রযুক্তির ফলে স্থলভাগে আঘাত না হানা আরও অনেক ঘূর্ণিঝড় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় ইসাইয়াস উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে উপসাগরীয় উপকূলজুড়ে ৭৫ থেকে ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোনো কোনো এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ ২৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এতে আকস্মিক বন্যা এবং বিচ্ছিন্নভাবে নদীর পানি উপচে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এনওএএ জানিয়েছে, উত্তর উপসাগরীয় উপকূলের কিছু এলাকায় প্রাণঘাতী জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি বাড়ছে। এ ছাড়া ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডেল অঞ্চল, দক্ষিণ আলাবামা ও মিসিসিপির কিছু এলাকায় হারিকেনের গতির বাতাসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
ইতিমধ্যে হারিকেন সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সম্ভাব্য দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য প্রস্তুতি নিতে এবং কর্তৃপক্ষের জারি করা যেকোনো সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ মেনে চলতে মানুষকে বলা হয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান