আন্তর্জাতিক

আটলান্টিকের নাম নিজের নামে রাখতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প, গুগলের ‘না’

17348_90 2.jpeg

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তন করে নিজের নামে ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। তবে গুগল ম্যাপসের মাধ্যমে নাম পরিবর্তনের সেই প্রস্তাবে সাড়া মেলেনি বলে দাবি করেছেন তিনি। গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাই নাকি তাঁকে এমন উদ্যোগ না নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

সম্প্রতি এক জনসভায় সমর্থকদের সামনে এ ঘটনা বর্ণনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আটলান্টিক মহাসাগরের নাম ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ করার জন্য তিনি গুগল ম্যাপসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। জবাবে গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই তাঁকে বলেছিলেন, এবার আর এ ধরনের পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। কারণ, মহাসাগর বহু দেশের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এর বিস্তৃতি অনেক বড়।

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, পিচাই তাঁকে অনুরোধ করে বলেছিলেন, মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে যেন তাঁকে আর অনুরোধ না করা হয়। জনসভায় ট্রাম্পের মুখে এ ঘটনা শুনে উপস্থিত সমর্থকেরা হাসিতে ফেটে পড়েন। তবে গুগল বা সুন্দর পিচাইয়ের পক্ষ থেকে এ কথোপকথনের সত্যতা নিশ্চিত করার কোনো তথ্য এখানে উল্লেখ করা হয়নি।

এর আগে উপসাগর ও হ্রদের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েও আলোচনায় এসেছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিজের নাম যুক্ত করার প্রবণতাও তাঁর ক্ষেত্রে নতুন নয়। চলতি বছর ফ্লোরিডার পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম তাঁর নামে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম ও ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ট্রাম্পের নাম বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের অন্যতম আলোচিত দিক হয়ে উঠেছে।

ইতিহাসবিদ ও প্রচারকৌশল বিশ্লেষক ড. ইয়ান গার্নার এর আগে সংবাদমাধ্যম মেট্রোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের নাম ও ছবি সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর মতে, ট্রাম্পের এই প্রবণতার মধ্যে বিংশ শতাব্দীর কর্তৃত্ববাদী নেতাদের আত্মকেন্দ্রিক মানসিকতার সঙ্গে একবিংশ শতাব্দীর রিয়েলিটি টেলিভিশন ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যের মিশ্রণ দেখা যায়।

গার্নারের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের কাছে বিষয়টি কেবল ভবিষ্যতের জন্য রাজনৈতিক উত্তরাধিকার রেখে যাওয়ার প্রচেষ্টা নয়, বরং বর্তমান সময়ে মানুষের প্রশংসা, পরিচিতি ও করতালি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। ছোটখাটো বাণিজ্যিক পণ্য থেকে শুরু করে বড় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ট্রাম্পের নাম ও ছবি ব্যবহারের প্রবণতা সেই আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন বলে মনে করেন তিনি।

ট্রাম্পের নাম ও স্বাক্ষর যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি মুদ্রায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। নতুন মার্কিন ডলার নোটে একজন দায়িত্বে থাকা প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হলে তা হবে দেশটির প্রচলিত রীতিতে ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার স্মরণে একটি বিশেষ স্বর্ণমুদ্রায় ট্রাম্পের ছবি ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

নিজের নাম ও পরিচিতিকে বিভিন্ন স্থাপনা, প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় প্রতীকের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের গল্পও সেই আলোচনায় যোগ করেছে নতুন মাত্রা। তবে গুগলকে ঘিরে তাঁর বর্ণিত কথোপকথনের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত না হওয়ায় বিষয়টি আপাতত ট্রাম্পের নিজের বক্তব্য হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও