যুক্তরাজ্য

Mirror
২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:১০
আরও খবর

যুক্তরাজ্যে ১৩ এলাকায় বন্যার জরুরি সতর্কতা, নিরাপদ স্থানে যাওয়ার নির্দেশ!

17367_Untitled-1.jpg

যুক্তরাজ্যজুড়ে ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির মধ্যে বন্যার জরুরি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির পরিবেশ সংস্থা। স্টর্ম অস্টেনের প্রভাবে ইংল্যান্ডের ডেভন, ডরসেট, উইল্টশায়ারসহ মিডল্যান্ডসের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুটি বন্যার সতর্কতা এবং ১০টি বন্যার সম্ভাব্যতা সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া, উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেওয়া এবং পরিবারের সদস্য, পোষা প্রাণী ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ সংস্থার সতর্কতা অনুযায়ী, দক্ষিণ ডেভনের উপকূলীয় এলাকায় বিস্তৃত বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে বিস্যান্ডস, টরক্রস, স্ল্যাপটন ও ডাউলিশ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। হালস্যান্ডস, বিস্যান্ডস, টরক্রস, স্ল্যাপটন, ব্ল্যাকপুল স্যান্ডস, টেইনমাউথ প্রমেনেড ও ডাউলিশের মতো উপকূলীয় এলাকাগুলোকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ডরসেটের চিসওয়েল উপকূলেও বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এ এলাকায় এ৩৫৪ চিসওয়েল, ব্র্যান্ডি রো, পেবল লেন, কুইন্স রোডের সংযোগস্থল পর্যন্ত ভিক্টোরিয়া স্কয়ার, এ৩৫৪-এর পাশের গাড়ি পার্কিং এলাকা এবং লেরেট রোডের ইয়ার্ড বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ১১টা পর্যন্ত সেখানে বন্যার আশঙ্কা থাকার কথা জানানো হয়েছিল।

পরিবেশ সংস্থা জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় কর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন। উপকূলে ঢেউ আছড়ে পড়া এবং ধ্বংসাবশেষ মিশ্রিত পানির ছিটা থেকে বিপদের আশঙ্কা থাকায় সমুদ্রতীর ও বন্দরের কাছাকাছি না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক বন্ধের বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট থেকে তথ্য জানার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, ডরসেটের ক্রাইস্টচার্চ হারবার এলাকায়ও বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে নিচু ভূমি, নদীর কাছাকাছি সড়ক এবং উপকূলবর্তী এলাকায় বসবাসকারী ও চলাচলকারীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বন্যার পানিতে প্লাবিত হতে পারে এমন উপকূলীয় সড়ক, হাঁটার পথ ও গাড়ি পার্কিং এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

দক্ষিণ ডেভনের স্টার্ট পয়েন্ট থেকে ডাউলিশ ওয়ারেন পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদেরও সতর্ক করা হয়েছে। বন্যার পানির মধ্য দিয়ে হাঁটা, সাইকেল চালানো কিংবা গাড়ি নিয়ে চলাচল না করার আহ্বান জানিয়েছে পরিবেশ সংস্থা।

লেস্টারশায়ারের লোয়ার রিভার সোয়ার এলাকায় নদীর পানি বাড়তে থাকায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ অঞ্চলে নিচু কৃষিজমি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার এক আপডেটে পরিবেশ সংস্থা জানায়, পরবর্তী ছয় ঘণ্টায় আরও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। পিলিংস লক গেজ এলাকায় নদীর পানির উচ্চতা আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় জলধারার কাছাকাছি নিচু হাঁটার পথ ও সেতু এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সুইন্ডনের রিভার কোল, ডোরকান ব্রুক ও সাউথ মার্সটন ব্রুক এলাকাতেও বন্যার সতর্কতা জারি রয়েছে। পরিবেশ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় প্লাবনের ঘটনা ঘটেছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় দিনজুড়ে নদীর পানির উচ্চতা বেশি থাকতে পারে। নদীর প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করতে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংস্থাটি।

বন্যার ঝুঁকির পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। কর্নওয়াল, ডেভন, আইলস অব সিলি ও প্লাইমাউথে শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত আবহাওয়া দপ্তরের অ্যাম্বার সতর্কতা কার্যকর ছিল। এসব এলাকায় ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ মাইল বেগে বাতাস বইতে পারে। উপকূলের উন্মুক্ত স্থানে দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় প্রায় ৮০ মাইল পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। উড়ে আসা ধ্বংসাবশেষ মানুষের আঘাতের কারণ হতে পারে এবং প্রাণঘাতী বিপদও তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দপ্তর।

এ ছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ড, দক্ষিণ উপকূল, ওয়েলসের কিছু অংশ ও হেরেফোর্ডশায়ারে শুক্রবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে। এসব এলাকায় ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ মাইল বেগে বাতাস বইতে পারে, উপকূলীয় ও উন্মুক্ত স্থানে দমকা হাওয়ার গতি ৭০ মাইল বা তার বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের আরও বিস্তৃত এলাকায় নতুন করে হলুদ সতর্কতা কার্যকর হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এর আওতায় রয়েছে লন্ডন, মিডল্যান্ডস, উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ড এবং ইয়র্কশায়ারের কিছু অংশ। এসব এলাকায় ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৫৫ মাইল বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

বন্যার সতর্কতার আওতায় থাকা অন্যান্য এলাকার মধ্যে রয়েছে ডরসেটের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূল, রিভার চুরনেট ও রিভার টিন, রিভার সো ও রিভার পেন্ক এবং ব্ল্যাক কান্ট্রি ও দক্ষিণ স্ট্যাফোর্ডশায়ারের রিভার স্টোর ও স্মেটউ ব্রুক এলাকা। এ ছাড়া পশ্চিম ডরসেটের বিভিন্ন নদী ও জলধারার আশপাশেও সতর্কতা জারি রয়েছে।

পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সতর্কতার মাত্রা ও নির্দেশনায় পরিবর্তন আসতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের আবহাওয়া দপ্তর, পরিবেশ সংস্থা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বন্যার পানি ও প্রবল বাতাসের ঝুঁকি এড়িয়ে চলার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও