
যুক্তরাজ্যে বৈধ অভিবাসীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা Indefinite Leave to Remain (ILR) পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। আজ সোমবার (২ নভেম্বর) হাউস অব কমন্সে নতুন অভিবাসন নীতির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ।
প্রাথমিক প্রস্তাবে পাঁচ বছরের পরিবর্তে ১০ বছর পর স্থায়ী বসবাসের আবেদনের সুযোগ এবং কিছু নিম্ন আয়ের অভিবাসীর ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় ১৫ বছর করার কথা বলা হয়েছিল। তবে যুক্তরাজ্যে আগে থেকেই কর্মরত সোশ্যাল কেয়ার কর্মীদের জন্য এই নিয়মে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
মূল প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন ‘Earned Settlement’ ব্যবস্থায় অধিকাংশ অভিবাসীর জন্য স্থায়ী বসবাসের আবেদনের সময়সীমা হবে ১০ বছর। তবে উচ্চ আয়ের ব্যক্তি, দক্ষ পেশাজীবী এবং স্থানীয় কমিউনিটিতে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় কমানোর সুযোগ রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
অন্যদিকে, নিম্ন দক্ষতার কিছু পেশায় কর্মরত অভিবাসীদের জন্য প্রাথমিক অপেক্ষার সময় ১৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে। এর মধ্যে সোশ্যাল কেয়ার কর্মীরাও রয়েছেন। তবে যুক্তরাজ্যে আগে থেকেই কর্মরত কেয়ার কর্মীদের নতুন নিয়ম থেকে ছাড় দেওয়া অথবা তাঁদের জন্য অপেক্ষার সময় কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
এই প্রস্তাব নিয়ে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির মধ্যেই মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। হাউজিং সেক্রেটারি অ্যাঞ্জেলা রেনার আগে থেকেই যুক্তরাজ্যে বসবাসরত অভিবাসীদের ওপর নতুন নিয়ম কার্যকর করার প্রস্তাবকে ‘আন-ব্রিটিশ’ বলে সমালোচনা করেছিলেন। কেয়ার সেক্টরের নিয়োগদাতা, ট্রেড ইউনিয়ন এবং লেবার পার্টির কয়েকজন আইনপ্রণেতাও নতুন নিয়মের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
সরকারের এই প্রস্তাবের ওপর গত বছরের ২০ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জনমত গ্রহণ করা হয়। এতে ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দুই লাখের বেশি মতামত জমা পড়ে। এসব মতামত পর্যালোচনা করেই চূড়ান্ত নীতিমালা নির্ধারণ করা হচ্ছে।
এদিকে, বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি প্রস্তাবিত নিয়ম শিথিল করার সম্ভাবনার সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, এতে সরকারের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা দুর্বল হয়ে পড়বে। অন্যদিকে, কেয়ার খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কঠোর নিয়মের কারণে বিদেশি কর্মীরা নিরুৎসাহিত হলে এই খাতে কর্মীসংকট আরও বাড়তে পারে।
আজকের ঘোষণায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে, নতুন নিয়ম শুধু ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যে আসা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে, নাকি বর্তমানে বৈধভাবে বসবাসরত কিন্তু এখনো ILR না পাওয়া ব্যক্তিরাও এর আওতায় পড়বেন। একই সঙ্গে সোশ্যাল কেয়ার কর্মীদের জন্য কী ধরনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে, সেটিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আজ বিকেল সাড়ে ৩টার পর হাউজ অব কমন্সে বক্তব্য দেওয়ার কথা। এই প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত তাঁর চূড়ান্ত ঘোষণা প্রকাশিত হয়নি। তাই ১০ বছর বা ১৫ বছরের সময়সীমা এবং সম্ভাব্য ছাড়গুলো এখনো ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, Indefinite Leave to Remain (ILR) হচ্ছে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস, কাজ ও পড়াশোনার অধিকার। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে ILR পাওয়া ব্যক্তি সরকারি সুযোগ-সুবিধার জন্যও আবেদন করতে পারেন।