যুক্তরাজ্য

BBC
৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১১
আরও খবর

কেয়ার কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের নিয়মে পরিবর্তন, আর্থিক প্রভাব জানাতে নারাজ শাবানা!

17463_a8002b30-d768-11f1-a956-ff083523ef77-2.jpeg

যুক্তরাজ্যে বিদেশি কেয়ার কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা ইন্ডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) পাওয়ার সময়সীমা নিয়ে আগের অবস্থান থেকে সরে এলেও নতুন সিদ্ধান্তের আর্থিক প্রভাব কতটা হবে, তা জানাতে রাজি হননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। তাঁর দাবি, সংশোধিত পরিকল্পনার মাধ্যমে সরকারের কয়েক বিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় হবে। তবে নতুন পরিকল্পনায় ঠিক কত অর্থ সাশ্রয় হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশ করেনি স্বহোম অফিস।

এর আগে অধিকাংশ অভিবাসীর ক্ষেত্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার জন্য পাঁচ বছরের পরিবর্তে ১০ বছর অপেক্ষার প্রস্তাব দিয়েছিলেন শাবানা মাহমুদ। কিছু অভিবাসীর ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ১৫ বছর পর্যন্ত করার পরিকল্পনাও ছিল। সরকারের দাবি ছিল, এই পরিবর্তনের ফলে প্রায় ১০ বিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় হতে পারে।

তবে ব্যাপক সমালোচনা ও রাজনৈতিক চাপের মুখে সোমবার পরিকল্পনায় পরিবর্তনের ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসের আগে যুক্তরাজ্যে আসা যেসব বিদেশি কেয়ার কর্মীর বার্ষিক আয় কমপক্ষে ২৫ হাজার পাউন্ড, তাঁরা আগের নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের আবেদনের সুযোগ পাবেন। কিছু অন্যান্য শ্রেণির অভিবাসীও এই সুবিধার আওতায় থাকবেন।

তবে যেসব কেয়ার কর্মী পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জন করতে পারবেন না, তাঁদের জন্য নতুন পাঁচ বছরের ভিসার সুযোগ রাখা হবে। এই ভিসার মেয়াদ শেষে তাঁরা স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

নতুন সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাজ্যে বর্তমানে বসবাসরত পাঁচ বছরের পরিবর্তে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে এমন অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ থেকে কমে ৫ লাখের কিছু বেশি হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১৯ লাখ মানুষ যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাবেন।

বিবিসি রেডিও ফোরের টুডে অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শাবানা মাহমুদ বলেন, সংশোধিত পরিকল্পনার বিস্তারিত আর্থিক হিসাব সংসদে পরিবর্তনগুলো উপস্থাপনের সময় প্রকাশ করা হবে। তাঁর মতে, যেসব কেয়ার কর্মী বর্তমানে কেয়ার খাতে কাজ করছেন না, তাঁদের মধ্যে অনেকেই পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পেলে সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারতেন। নতুন ব্যবস্থায় তাঁদের আরও পাঁচ বছর কাজের মাধ্যমে অর্থনীতিতে অবদান রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আনা টারলি বিবিসি ব্রেকফাস্টে বলেন, নতুন পরিকল্পনার ফলে আগামী কয়েক বছরে কল্যাণমূলক ভাতা খাতে অন্তত ১ বিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় হতে পারে। তবে মোট সাশ্রয়ের পরিমাণ নির্ধারণে আরও হিসাব-নিকাশ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে কনজারভেটিভ পার্টি সরকারের এই পরিবর্তনকে ইউ-টার্ন হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছে, এর ফলে যুক্তরাজ্যের কয়েক বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হতে পারে।

তবে সরকারের আগের ১০ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চ (আইপিপিআর)। সংস্থাটির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্তমান স্থায়ী বসবাসের নিয়মের আওতায় অভিবাসীরা যুক্তরাজ্যের সরকারি অর্থনীতিতে ১১৫ বিলিয়ন পাউন্ডের অতিরিক্ত অবদান রাখতে পারেন। সংস্থাটির সহযোগী পরিচালক মার্লে মরিস বলেন, অভিবাসনের ব্যয় নিয়ে আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হলেও এর অর্থনৈতিক অবদানের বিষয়টি পুরোপুরি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা আইএলআর পেলে একজন ব্যক্তি যুক্তরাজ্যে অনির্দিষ্টকাল বসবাস, কাজ ও পড়াশোনা করতে পারেন। যোগ্যতা থাকলে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও নিতে পারেন এবং পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন।

কেয়ার কর্মীদের জন্য নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে লেবার পার্টির ভেতরেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে ইতোমধ্যে বৈধভাবে বসবাসরত কর্মীদের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী নিয়ম পরিবর্তনের উদ্যোগের সমালোচনা করেন কয়েকজন এমপি। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, এতে কেয়ার খাতে দক্ষ কর্মীর সংকট আরও বাড়তে পারে। তবে শাবানা মাহমুদ তাঁর নতুন সিদ্ধান্তকে ইউ-টার্ন বলতে নারাজ। তাঁর দাবি, জনমত ও পরামর্শ গ্রহণের পর সংশোধিত পরিকল্পনায় বিভিন্ন পক্ষের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রাখা হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও