রংপুর

মিঠাপুকুরে জাপার ঘাঁটিতে জামায়াতের জয়, আ. লীগের ভরাডুবি

1608_images.jpg

সপ্তম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হয়েছে। উপজেলার ১৭ ইউপির মধ্যে ৩ ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয় পেয়েছেন। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, দলীয় প্রতীকে উপযুক্ত প্রার্থী দিতে না পারা, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় আওয়ামী লীগের এমন ফল বিপর্যয় হয়েছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাকি ১৪ ইউপির মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সর্বোচ্চ সাত ইউপিতে জামায়াতের নেতা বিজয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া চার ইউপিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী এবং তিনটিতে বিএনপির নেতা নির্বাচিত হয়েছেন।

দলের এমন ভরাডুবির বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম বলেন, বিভিন্ন ইউপিতে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় নির্বাচনের ফলাফলে সেটার প্রভাব পড়েছে। তবে যাঁরা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন, তাঁরা তো আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া নির্বাচনে শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকায় দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যেও গা–ছাড়া ভাব ছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রংপুর আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা বলেন, নৌকা প্রতীক পেলেই যে নির্বাচনে জয় সহজ হবে, এবারের নির্বাচনে সেই ভাবনা পাল্টে গেছে। নির্বাচন করতে গেলে মাঠপর্যায়ে দলের হয়ে কাজ থাকতে হবে। নেতা-কর্মীদের মধ্যে কোনো বিভেদ রাখা যাবে না। আবার ওই প্রার্থীর সঙ্গে মাঠপর্যায়ে মানুষের সঙ্গেও সামাজিক সম্পর্কও থাকা প্রয়োজন, তা না হলে এভাবে ফল বিপর্যয় হতেই থাকবে। এবারের এ নির্বাচন দলকে সে শিক্ষাই দিল।

রংপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রইস আহমেদ বলেন, বিএনপি সরাসরি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার পরও আওয়ামী লীগের এ অবস্থা। বিএনপি যদি সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করত, তাহলে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আরও ভরাডুবি হতো।

এদিকে রংপুরের মিঠাপুকুর জাতীয় পার্টির (এরশাদ) শক্ত ঘাঁটি হলেও ১৭ ইউপির মধ্যে মাত্র ৫ ইউপিতে প্রার্থী দিতে পেরেছে দলটি। তবে ওই পাঁচ ইউপিতেই জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন।

জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটিতে এমন ব্যর্থতার বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টি রংপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক বলেন, দল যে পাঁচ ইউপিতে লাঙ্গল প্রতীকে প্রার্থী দিয়েছে, তাঁরাই স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে লড়াই করেছেন। অন্য ইউপিগুলোতে উপযুক্ত প্রার্থী ছিলেন না। অন্যদিকে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আগ্রহ না থাকায় সব ইউপিতে প্রার্থী দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও