
কোথায় যেন খেই হারিয়ে ফেলেছে ঢাকার সিনেমা। প্রযোজক-পরিচালক ও শিল্পী কুশলীদের সমিতির ব্যস্ততা দেখলে মনে হয় তারা সবাই আছেন। কিন্তু নেই সিনেমার সেই জৌলুস, নেই হলে হলে উপচে পড়া দর্শকের ভিড়।
যার ফলে দিনে দিনে বেড়েই চলেছে সিনেমার শিল্পীদের বেকারত্ব। শত শত সিনেমায় অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত থাকা শিল্পীরা এখন বছর পার করে দিচ্ছেন একটি সিনেমার কাজও করতে না পেরে। পরিবার নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন অসহায়ত্বে। কেউ সেসব বলেন, কেউ আবার লোক লজ্জার ভয়ে অসময়কে চেপে যান নিয়তির পরিহাস ভেবে। সবারই প্রত্যাশা, সিনেমার সুদিন ফিরবে। কিন্তু কবে, কীভাবে- সেটা জানেন না কেউ।
দীর্ঘ দুই দশক ধরে দেশের চলচ্চিত্রে নানা চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের হাসির খোরাক জুগিয়েছেন শামীম খান। তবে ‘চিকন আলী’ নামেই দর্শকের কাছে বেশি পরিচিত এই অভিনেতা। দুই দশকের ক্যারিয়ারে তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
কমেডিয়ান হিসেবে পেয়েছেন ব্যাপক জনপ্রিয়তাও। তবে চলচ্চিত্রের বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ব্যস্ততা এখন আর নেই। কাজের অভাবে কঠিন সময় পার করছেন বলে জানালেন এই অভিনেতা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাতে নিজের বর্তমান পরিস্থিতি ও দেশের চলচ্চিত্র নিয়ে কথা বলেন তিনি। চিকন আলী বলেন, ‘ভালো নাই ভাই। অযথা বলে লাভ নাই, খুব খারাপ আছি। কাজ নাই, কর্ম নেই, চলচ্চিত্র নেই। পরিবার নিয়ে অসহায় দিন কাটে। চলচ্চিত্রের জন্যই তো নিজেকে তৈরি করছি, সেই চলচ্চিত্র কই? কোথায় সিনেমা?’
কাজ না থাকলে একজন শিল্পীর পক্ষে ভালো থাকা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভালো কাজ না থাকলে আপনি ভালো থাকবেন কী করে? আপনি যে পেশায় আছেন, সেখানে একটা ব্যবসা করছেন। ব্যবসায় যদি ক্রেতা না আসে, পণ্য বিক্রি করতে না পারেন, তাহলে ভালো থাকবেন কী করে? আমি তো একটা পণ্য। আমি যদি নিজেকে বিক্রি করতে না পারি, তাহলে ভালো থাকব না। আমার পরিবারও ভালো থাকবে না।’
তার ভাষ্য, চলচ্চিত্র নিয়ে অনেক কথা হলেও বাস্তবে কাজের জায়গায় তার প্রতিফলন খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। চলচ্চিত্র নির্মাণে বড় পরিসরের পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।
চিকন আলী বলেন, ‘সবাই চলচ্চিত্রকে নিয়ে ফাঁকা বুলি দেয়। চলচ্চিত্রে এটা হয় না, সেটা হয় না। এভাবে তো হবে না। ভাই, আপনার বাজেট লাগবে। এখন আপনি দুই, চার, পাঁচ, ১০ কিংবা ২০ কোটি টাকা দিয়ে ছবি বানালে এ দেশের দর্শক আর গ্রহণ করবে না। আমাদের ১০০-২০০ কোটি টাকার সিনেমা বানাতে হবে।’
দেশের চলচ্চিত্রের দর্শককে আবারও হলমুখী করতে হলে বড় পরিসরে সিনেমা নির্মাণের পাশাপাশি প্রদর্শনের সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে সফল সিনেমার কথা তুলে ধরেন এই অভিনেতা।
তিনি বলেন, ‘টাইটানিকের মতো ছবি আমাদের চার উপজেলা কেন্দ্রিক হয়েও দর্শক পেয়েছে। বগুড়ার সোনিয়া সিনেমা হলে টাইটানিক লাগানো হয়েছিল। নওগাঁ, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাটসহ আশপাশের জেলার মানুষ সেখানে এসে ছবিটি দেখেছে। আমাদের ছবি চলার জন্য এমন ব্যবস্থা করতে হবে, যেখানে এক জেলার হলে আশপাশের ১০ জেলার মানুষ এসে ছবি দেখবে।’
চিকন আলীর মতে, দর্শককে হলে ফেরাতে হলে ভারতীয় সিনেমার মতো বড় পরিসরে গল্প ও নির্মাণ ভাবতে হবে। শুধু পুরোনো ধাঁচের মারামারি বা কৃত্রিম অ্যাকশন দিয়ে এখন আর দর্শক টানা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘সিনেমাকে সিনেমার মতো করতে হবে। এমন ছবি বানাতে হবে, যেটা দেখতে মানুষ ছুটে আসবে। দর্শক এখন অনেক কিছু দেখে ফেলেছে। তাই নতুন কিছু দিতে হবে। ভালো সিনেমা হলে দর্শক অবশ্যই আসবে।’
চিকন আলী বর্তমানে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত ইউটিউব কনটেন্টও তৈরি করছেন।